নামাজে মনযোগী হবার একটি বিশেষ পদ্ধতি

0
157

সালাতে কোনভাবেই মনোযোগ স্থির থাকে না”







– আমাদের অনেক ভাইবোনদের এই কমন সমস্যাটি হয়। হয়তো এই কারণেই অনেকের সালাত আদায় করতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সময় লাগে। কিভাবে সালাতে মনোযোগ বাড়াতে পারি আমরা?







রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন – “তোমরা সালাতে মৃত্যুকে স্মরণ করো। কারণ যেই ব্যক্তি সালাতে মৃত্যুকে স্মরণ করবে, সে সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে বাধ্য। এবং সেই ব্যক্তির মতো সালাত আদায় করো, যে মনে করে – এই সালাতের পরে আর কোন ওয়াক্ত সালাত আদায় করার ভাগ্য তাঁর হবে না।”







[আল-সিলসিলাহ আস-সহীহঃ হাদীস ১৪২১। আস-সুয়ূতী থেকে বর্ণিত, হাফিজ ইবনে হাযার আল আসক্বালানী রহঃ এই হাদিসটি ‘হাসান’ বলেছেন]
আবু আইয়ুব আল আনসারী (রাদিআল্লাহু আনহু) কে উপদেশ দেয়ার সময়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন – “যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তুমি বিদায়ী সালাত (এমনভাবে যাতে এই সালাত-ই জীবনের শেষ সালাত) আদায় করবে।”







[মুসনাদে আহমদঃ খন্ড ৫, হাদীস ৪১২। সহীহ আল-জাম’ঈঃ হাদীস ৭৪২]
হে মুসলিম ভাইবোনেরা,

সালাত আদায়ের সময় আমাদের এমনভাবে মন স্থির করা চাই, যাতে আমাদের মনে হয় – জান্নাত আমাদের ডান পাশে, জাহান্নাম আমাদের বামে। পুলসিরাত আমাদের পায়ের নিচে, মাথার উপরে পাহাড়সম পাপরাশি ভেঙে পড়বার অপেক্ষায়। আর মালাকুল মাউত আমাদের পেছনে রূহ টেনে নেয়ার অপেক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে।







এই সালাত-ই আমাদের শেষ সৎ কাজ। সালাত শেষেই পৃথিবীর সবচে’ বড় সত্যের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের; “মৃত্যু”। আমাদের আমলনামা বন্ধ হয়ে যাবে। যাবতীয় হাহাকার কিংবা আফসোস কোন কাজে আসবে না।

ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে এই সেই শেষ মুহূর্ত, এই সেই শেষ ক্ষণ। এবং এই সালাত-ই আমাদের অসীম সময়ের জন্য নির্ধারিত আবাস জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ফয়সালা করে দেবে!







ওয়াল্লাহী, আমরা কি তখন শেষ সালাতেও তাড়াহুড়ো করবো?

আল্লাহ (সুব’হানাহু ওয়া তা’আলা) এর সামনে জীবনের শেষ সিজদাহ কি আমরা দীর্ঘ এবং আবেগঘন করে তুলব না?

শেষের শুরুটা ভালো করার জন্য মনকে স্থির করব না আমরা?







‘যে হেদায়েতের দিকে আহবান করে, এ হেদায়েতের যত অনুসরণকারী হবে, তাদের প্রতিদানের সমতুল্য প্রতিদান সে পাবে।’
(মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৮)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here