পৃথিবী মানুষের আদি ‘বাড়ি’ নয়! গবেষকের দাবি ঘিরে রহস্য

0
56

আমি কে? মানুষের জীবনের সবচেয়ে সরল অথচ সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন এটাই। জন্ম ও মৃত্যু— তার মাঝে কাটিয়ে একটা আস্ত জীবন।

কিন্তু কী করে সম্ভব হল এমনটা? কেন সৌরজগতের অন্য কোনও গ্রহে নয়, এই নীল রংয়ের গ্রহেই জন্ম নিল প্রাণ? শুধু তো সৌরজগতই নয়, এখনও পর্যন্ত যত অন্বেষণ, তাতে অন্য কোনও নক্ষত্রমণ্ডলীতেও মেলেনি প্রাণের চিহ্ন! তাহলে এণন বিরল সৌভাগ্য কীভাবে জুটে গেল পৃথিবীর কপালে?

বিজ্ঞানী থেকে দার্শনিক— হাজার হাজার বছর ধরে পাক খাচ্ছে প্রশ্নটি আজও ঘুরপাক খেতে থাকে। সম্প্রতি একটি বই নিয়ে শোরগোল নেট দুনিয়ায়। সে বইয়ের নাম ‘হিউম্যানস আর নট ফ্রম আর্থ’। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, লেখক ডঃ এলিস সিলভারের দাবিটা ঠিক কী? আর এহেন দাবিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হবে তাতে আর আশ্চর্য কী!

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বিবর্তনবাদ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন সিলভার। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, এই গ্রহে মানুষ যতই মৌরসীপাট্টা গেড়ে বসুক না কেন, তারা এসেছে বাইরের গ্রহ থেকে।

নিজের যুক্তির সপক্ষে লেখকের দাবি, সূর্যের প্রখর তাপে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৃথিবীর পরিবেশে মানুষ বহু ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। এমন একজনও মানুষও নেই, যে একশো শতাংশ সুস্থ।

এমনই নানা যুক্তিজাল বিস্তার করেছেন লেখক। বইটি নিয়ে চলছে জোর তর্ক-বিতর্ক। তবে সিলভার যা বলছেন, তা নতুন কিছু নয়। এর আগেও এমন দাবি শোনা গিয়েছে।

পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, মহাজাগতিক ব্যাকটিরিয়াই পৃথিবীতে বয়ে এনেছে প্রাণের বীজ। ১৯৯৮ সালে টেক্সাস ও মরক্কোতে আবিষ্কৃত হয়েছিল দু’টি উল্কাখণ্ড। ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে ওই উল্কা দু’টি পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

গবেষণায় নেমে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন, ওই উল্কাখণ্ডতে রয়ে গিয়েছে জল ও বিভিন্ন জৈব যৌগ। সেই চিহ্ন থেকেই পৃথিবীর প্রাণ-রহস্য খুঁজছেন তাঁরা। সিলভারের দাবি, সেই গবেষণার কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

সত্যিই কি মহাকাশের অন্য কোণ থেকে এসেছে মানুষ? অন্য এলিয়েনরা আমাদের পৌঁছে দিয়েছে এই গ্রহে? উত্তরটাই এখন তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। হয়ত কোনও দিন তেমনই প্রমাণ মিলে যাবে। সেদিন সিলভারের বইটির কথা আরও বেশি করে আলোচনায় উঠে আসবে।

আপাতত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে তর্ক। শিশুর প্রশ্ন ‘এলেম আমি কোথা থেকে’ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বগ্রামের উঠোনময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here